ফয়সাল আহমেদ

গত সপ্তাহে ইউরোপে আবার নতুন করে ১.৫ (দেড়) মিলিয়ন কোভিড-১৯ (করোনা রুগী শনাক্ত হয়েছে) এটি একটি নতুন রের্কড, যা ইউরোপ এই মহামারীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইংল্যান্ডে ৫ নভেম্বর থেকে আবার নতুন করে লকডাউনে প্রবেশ করবে। যদিও গ্রীষ্মের পর থেকে ভাইরাসটি নিজেই পরিবর্তিত হয়েছে এমন কিছু স্থায়ী প্রমাণ রয়েছে, তবে এই পরিবর্তনটি সংক্রমণযোগ্যতা বা রোগের তীব্রতাকে প্রভাবিত করেছে এমন কোনও প্রমান পাওয়া যায়নি।

আমেরিকান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফৌসি সম্প্রতি বলেছিলেন যে মহামারীটির প্রথম প্রোকপের সময়  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঠিক ইউরোপের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে। সেখান থেকে মহামরী কিছুটা কাটিয়ে ওঠার পরে ইউরোপের সকল দেশ প্রায় একই সময়ে লকডাউন তুলে নিয়েছিল, এবং বেশিরভাগ স্কুল গুলো খোলা ছিল, তার ফলে মানুষ কিছুটা অবাধে চলাফেরা এবং স্বাস্থ্যবিধী না মেনে চলার কারনে এই মহামারি টি আবারো ছড়িয়ে পড়েছে বলে অনেকের ধারনা।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন শীত শেষে বসন্তের শুরুতে লকডাউন কার্যক্রম চালু না রাখা, এবং  বিশেষজ্ঞদের মতামত কে অগ্রাহ্য করার ফলে কোভিড-১৯ আবার প্রকোপ আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন। এবং রাজনীতিবিদরা চিন্তা করেছিলেন দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রেখে মানুষের জীবন বাঁচানো। যা বিশেষজ্ঞদের মতামতের বাইরে ছিল, মহামারীটি কিছুটা কমার সাথে সাথে মানুষের সদিচ্ছা ও বিশ্বাস দূরে সরে গিয়েছিল, এবং এই বিশেষজ্ঞরা যখন এই সময়ে আবার শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান করতে শুরু করেছিলেন – তখন রাজনীতিবিদরা মতামতটি শুনতে আগ্রহ দেখায়নি । যার ফলে ইউরোপজুড়ে কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস)  আবার দ্বিতীয় মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আবারো ইউরোপের সকল দেশের নেতাদের কপালে চিন্তার বড় রেখা দেখা যাচ্ছে।

দ্যা গার্ডিয়ান

Leave a Reply