পানির নিচে আরেক বিস্ময়কর পৃথিবী

আমাদের এই পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগই রয়েছে পানির নিচে। সমুদ্রের গভীরে এ যেন আরেক বিস্ময়কর পৃথিবী। নাম না জানা হাজারও প্রাণের বসতি এই সমুদ্রের তলদেশ। কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইনস্টিটিউটের মতে, পানির নিচের রহস্যময় পৃথিবীর চেয়ে বিজ্ঞানীরা মহাশূন্য সম্পর্ক বেশি জানে। অর্থাৎ মহাশূন্যের চেয়ে সমুদ্রের গভীরের বিশাল জগৎ প্রায় পুরোটাই আমাদের অজানা।
ভূপৃষ্ঠের চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে পানির নিচে। কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মনে করেন, সমুদ্রের নিচের বিশাল জগতের প্রায় ৯১ শতাংশই অজানা।
বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে চলেছেন সমুদ্রের তলদেশ নিয়ে। প্রতিনিয়তই আবিষ্কৃত হচ্ছে নতুন নতুন প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী। এসব প্রাণীদের মধ্যে কিছু প্রাণীর অবয়ব দেখলে হয়ত ভয় পেতে পারেন। এমন উদ্ভট ভয়ঙ্কর চেহারার প্রাণীর সন্ধান মিলছে সমুদ্রের গভীরে। আবার দৃষ্টিনন্দন প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে এখানে। তবে সমুদ্রের নিচের এখনও কিছু বিষয় বিজ্ঞানীদের কাছে অবিশ্বাস্য এবং রহস্যময় হয়েই রয়েছে।
ট্রেডরাইট ফাউন্ডেশনের সমুদ্র সংরক্ষণ প্রকল্প সমুদ্র নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিশ্বাস্য তথ্য প্রকাশ করেছে।

যেহেতু পৃথিবীর ৭০ ভাগই পানির নিচে সুতরাং সামুদ্রিক পরিবেশ পৃথিবীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একারণে সমুদ্রের গভীরের পরিবেশ এবং প্রাণীজগত সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালাচ্ছেন নিরন্তর।
ওসান সার্ভিসের তথ্যমতে, মানুষ এই বিশাল সমুদ্রের রহস্যময় জগত সম্পর্কে মাত্র ৫ ভাগের কম জানতে পেরেছে।

পৃথিবীর বৃহত্তম পর্বতমালা মধ্য ওশান রিজ প্রায় পুরোটাই রয়েছে সমুদ্রের নিচে। যে পর্বতমালা প্রায় ৬৫০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। বলা হয়ে থাকে, এই পর্বতমালার চেয়ে আমরা শুক্র ও মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে বেশি তথ্য জানি।

জানলে অবাক হবেন হয়তো সমুদ্রের নিচে যে বিশাল ঐতিহাসিক স্টেচু রয়েছে যা পৃথিবীর কোনো জাদুঘরে নেই।

শুধু তাই নয়, যে অক্সিজেন আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে সেই অক্সিজেনের প্রায় ৭০-৮০ ভাগই উৎপাদিত হয় সামদ্রিক গাছপালা থেকে।

আরও অবাক হবেন জেনে যে, সমৃদ্রের গভীরেও রয়েছে নদী ও হৃদ। যথন নূনা জল ও হাইড্রোজেন সালফাইড একত্রিত হয় তখন চারপাশের অন্যান্য জায়গার চেয়ে এই অংশটি গভীর হয়ে সমুদ্রের নিচে প্রবাহিত হয়ে এটি হৃদ বা নদীর সৃষ্টি করে।

পিকক ম্যান্টিস চিংড়ি

ভারতীয় এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে দেখা মিলিছে এই চিংড়ির প্রজাতিটি বিভিন্ন রঙের সংমশ্রিনে দেখতেও বেশ। আর্ন্তজাতিক মহাসাগর সংরক্ষণ সংস্থা ওসেনার মতে খুব দ্রুত শিকার করতে পারে এরা। এবং এদের পাঞ্চ এতটাই শক্তিশালী যে একুরিয়ামের গ্লাসও ভেঙ্গে ফেলতে পারে

রিবন আইল
সাধারণত প্রবালপ্রাচীরের পাশঘেঁঁষে এদেও চলাচল করতে দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়ার জলেই এদেও বাস। তবে পূর্ব আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের পলিনেশিয়া পর্যন্ত এদেও চোখে পড়ে।

ফ্রল্ডি হাঙ্গর

সমুদ্রের আরেক নতুন ধরণের হাঙ্গরের দেখা মিলেছে। এর নাম করণ করা হয়েছে ফ্রিল্ড হাঙ্গর। এটি দেখতে অনেকটা প্রাচীন পশুর মতো। এটি প্রায় ৭ ফুট লম্বা হয়।

ক্রিসমাস ট্রি ওরম

দেখতে অনেকটা ক্রিসমাস গাছের মতোই। এ কারলে এর নামকরল করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ওরম। বিজ্ঞানীরা এই প্রজাতির মাছটির খোঁজ পেয়েছেন বৃহত প্রবাল প্রাচীরের লিজার্ড দ্বীপে।

স্কুইডওয়ার্ম
২০০৭ সালে রিমোটচালিত একটি গাড়িতে করুজের সময় গবেষকরা ১.৮ মাইল পানির নিচে এটি আবিষ্কার করেছিলেন। চমতকার দেখতে মাছটির মাথা থেকে প্রসারিত ১০ টি সংযোজনের জন্যে এর নামকরণ করা হয়।

জায়ান্ট আইসোপড

এরা সমুদ্রের গভীর বাস করে। আকৃতিতে বেশ বড় হয় জায়ান্ট আইসোপড। ২০১০ সালে একটি রিমোট চালিত আন্ডাওয়াটার যান এটি আবিষ্কার করে। যদিও ১৮৭৯ সালে সমুদ্রের নিচে এই ধরণের প্রাণীর দেখা মিলেছিল। তবে এখন অনেকটা রহস্যময় এই প্রাণীটি।

ম্যারুস অর্থকেন্না

এটি দেখতে ঠিক মাল্টি-স্টেজ রকেটের মতো। বিভিন্ন রঙের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা ধাপ সংযুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে এই ম্যারুস অর্থকেন্না।

বায়োলুমনিসন্টে অক্টোপাস

বায়োলুমনিসেন্সে ব্যবহার করার জন্য পরচিতি কয়কেটি অষ্টপডগুলরি মধ্যে একট,ি স্টোরোথউিথসি সরিাটনেসসি অক্টোপাস মাইন উপসাগরে প্রায় এক মাইল গভীরে বাস কর।ে

ফ্লামিঙ্গ ইল

দেখলে মনে হতে পারে এটা রঙে আঁকা কোন ছবি। এর জিহবা বিভিন্ন রঙেগ উজ্জ্বল। তবে এই রঙগুলো আসে প্রাণীটিরি শরীরের নরম অংশ থেকে।

ডলফি সিড্রাগন

হঠাত দেখলে মনে হতে পাওে এটা কোন একটা গাছের ডাল। কিন্তু এটা আসলে কোনো গাছের ডাল নয়। সমুদ্রের নিচে আবিস্কৃত নতুন একটি প্রাণী। অস্ট্রেলিয়ার দুক্ষণ-পশ্চিম উপক’লে এটি দেখা যায়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: