মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি কি বদলাবেন জো বাইডেন?

টমাস ফালক

আমেরিকায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যদিও এখনও সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি, তবে সকল বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জো বাইডেন।
শিঘ্রই আমেরিকার কমান্ডার- ইন- চীফ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নীতমিালা বদল আনবেন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতিমালা কী হবে সেটি দেখার বিষয়। তবে অনেকেই মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার প্রত্যাহার চলমান থাকবে বলে আশা করছেন। কারণ বর্তমানে এই করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক নাজুক অবস্থা এবং নতুন করে করোনা মহামারীর মোকাবেলা খুব বড় চ্যালেঞ্জ হবে ,যার ফলে মধ্যপ্রাচ্য অনেকটা স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে পরমানু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়াকে চরম ব্যর্থতা বলে জানিয়েছিলেন, এখন দেখার বিষয় বাইডেন ইরানের সাথে কেমন নীতিমালা অনুসরণ করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে বাইডেন হয়তোবা নিজের ঘর গোছানের কাজে বেশি সময় দিবেন বলে মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় আমেরকিা প্রথম নীতির ফলে দেশে মানুষের মাঝে বিভেদ এবং সমন্বয়হীনতা বেড়েছে, এবং করোনার আঘাতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত যার ফলে তার বিজয়ী ভাষণে দেশের মানুষের প্রতি এক হয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানান। তবে যাই হোক মধ্যপ্রাচ্যে তার বিশেষ নজর থাকবে সে কথা নিসন্দেহে বলা যায়। এখন দেখে আসি বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি কী হতে পারে..

ইরান

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে পরমানু চুক্তি থেকে বের হয়ে যান, এবং ঘোষণা দেন এই চুাক্তর ফলে ইরান পারমানবিক শক্তিশালি হয়ে উঠবে, এই চুক্তি কখোনই করা উচিৎ নয় বলে মন্তব্য করেন। এবং ইরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। যার ফলে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ অনেক দেশ এর বিরোধিতা করে, কিন্ত ইসরাইল সাধুবাদ জানায়। তবে বাইডেন চাচ্ছেন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পরস্পর  সংহত সম্পর্ক বজায় রেখে সামনের দিকে এগোতে। এবং বাইডেন বিশ্বের সকল দেশকে একটি বার্তা দিতে চাইছেন যে আমেরকিা এমন একটি দেশ, যার উপর ভরসা করা যায়। তবে ইরানের পক্ষ হতে আয়াতুল্লাহ আল খমেনির কার্যালয়ের এক কট্টরপন্তি কর্মকর্ত  বলেছেন ডেমোক্র্যাটদের বিশ্বাস করা যাায় না! তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন রিপাবালিকান সিনেটর এবং এই অঞ্চলের মিত্র ইসরাইল এবং সৌদি আরব ইরানের সাথে পরমানু চুক্তির বিরোধিতা করবে, এখন দেখার বিষয় জো বাইডেন কোন নীতিতে চলেন।

আঞ্চলিক কোন্দল

বিস্তৃত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য বাইডেনের নীতিমালা এখনও অস্পষ্ট, তবে বারাক ওবামার থেকে শুরু হওয়া, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আমেরিকার প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তা সামনের দিকে যাবে কিনা সে বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে তিনি নির্বাচনী সময় কালে বলেছিলেন যেখানে আমেরকিার সুরক্ষা স্বার্থের ঝুঁকি নেই, সেখানে আমেরিকান সেনাদের ভুমিকা নেবার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেই সেনা কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার দিকে সরিয়ে নিতে পারেন এবং সেই সাথে আফগানিস্থানের উপর থেকে সমস্ত সেনা প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়ে ছিলেন। এবং আই এস ও আল কায়েদার উপর সামান্য নজরদারি করবেন বলে জানান।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন

বেনিয়ামিন নেতানিহাহু কিছুদিন আগে বলেছিলেন হোয়াইট হাউজ আমাদের পরম বন্ধু এবং সর্বকালের সেরা বন্ধু বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, এবং সম্প্রতিকালে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহারাইনের সাথে ইসরাইলের চুক্তি সম্পাদিত হয়, যার ফলে ফিলিস্তিন আরও আঞ্চলিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই চুক্তি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেন জো বাইডেন। এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ইসরাইলের প্রতি আমেরকিার সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের সাথে ইসরাইলের চুক্তি করতে আরও সহোযাগিতা করবেন বলেই মনে করছেন তারা।

আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর ফয়সাল আহমেদ

Leave a Reply

%d bloggers like this: