আমেরিকার ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কে পরাজিত করে ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হবার পেছনে ৫ টি কারণ তুলে ধরে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিবিসি অনলাইনে। নতুনপাতার পাঠকদের জন্য বিবিসি থেকে ভাষান্তর করেছেন ফয়সাল আহমেদ

১) কোভিড-১৯ ( করোনা ভাইরাস ) প্রাদূর্ভাবঃ 

চায়না থেকে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারী শুরু হবার পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেটি আসলে আমেরিকার জনস্বার্থ সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না, এবং প্রথম থেকেই ট্রাম্প সরকার করোনা ভাইরাস বিষয়ে উদাসীন ছিল, এবং হোয়াইট হাউজে একটি প্যানডেমিক অফিস ছিল, যেটি ওবামা সরকারের সময় করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ট্রাম সরকার অফিস টি তুলে দিয়ে ছিল। যার ফলে করোনা মহামারীর বিষয়ে তাদের কাছে তেমন তথ্য ছিল না। এবং ট্রাম্প প্রশাসন করোনা ভাইরাস কে হালকাভাবে নিয়েছিল, যেটি পরবর্তীতে সব থেকে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রকে নাস্তানাবুদ করে তুলেছিল। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ না করতে পারা এবং বড় ধরণের আর্থিক বিপর্যয়কে সামাল দিতে না পারা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ব্যর্থতা। যেটি আমেরিকার মানুষ ভালভাবে গ্রহণ করেনি। ট্রাম্পের এই ব্যর্থতাকেই পুজিঁ করে বাইডেন আমেরিকার মানুষের কাছে জায়গা করে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২) অংক করে ধীর গতির প্রচারণা :

জো বাইডেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক ভুল বক্তব্য এবং অসমীচিন কাজের জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন, যার ফলে ১৯৮৭ সালে নির্বাচনে তিনি হেরেছিলেন। তা ছাড়া ২০০৭ সালে তিনি নির্বাচনের জন্য আবার মাঠে নামেন কিন্তু সেবার তার তেমন কোন সম্ভাবনা ছিলনা। ফলে তৃতীয়বার সেই ভুল আর করেননি বাইডেন, এবার তিনি বক্তব্য দেবার সময় যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তার অসামাঞ্জস্য বক্তব্য প্রদান এর জন্য নিয়মিত সংবাদের উৎস হয়ে ছিলেন। অন্যদিকে মহামারী, অর্থনৈতিক বির্পযয় এবং ফ্লযেড হত্যা ছাড়া আরও বেশকিছু কারণের ফলে ট্রাম্প এর দিক থেকে মানুষ বাইডেনের দিকে ঝুঁকেছে বলে নির্বাচনে বাইডেন জয় পেয়েছেন।

৩) আর যেই হোক ট্রাম্প নয়!

গত বছর যখন বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বচনের জন্য মনোনীত হোন, সেদিন থেকেই তাদের প্রচারনায় একটি কথা উঠে আসে “ আমেরিকার এই নির্বাচন, আত্মরক্ষার নির্বাচন” এবং ট্রাম্পের সময় দেশের যে অবোকাঠামোগত কাজ হয়েছে তা মার্কিন জনমনে বিতর্ক জন্ম দিয়েছে এবং জন বিভক্তি তৈরি হয়েছে, যা থেকে জনগণ মুক্তি চায়, এবং ট্রাম্পের বেফাঁস মন্তব্য জনগণর প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ এবং ট্রাম্পের প্রতি জনগণর বীতশ্রদ্ধ তৈরি করেছে। যার ফলে বাইডেন জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন এটা স্রেফ দুজন মানুষের মধ্যে একজন কে বেছে নেওয়া নয়, বরং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণভোটের মত একটি বিষয়। বাইডেন যে ট্রাম্প নয় তা জনমনে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন জো বাইডেন।

৪) মধ্যম পন্থা অবলম্বনঃ

আমেরিকার এই নির্বাচনে জো বাইডেনের সব থেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্নী স্যান্ডার্স, তার সাথে আর একজন ছিলেন এলিজাবেথ ওয়ারেন। তাদের একটি জনসভায় রক গানের কনসার্টের মত বিশাল জনসমাবেস হতো। কিন্তু জো বাইডেন তাদের উদারপন্থিদের চাপের মুখেও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন।  তিনি সরকারি কলেজ শিক্ষা, সরকারি চিকিৎসা সেবা, এবং ধনীদের বেশি কর আরোপরে ব্যাপারে সমর্থন দেননি, এবং কমলা হ্যারিস কে তার রানিং মেট করা টা তার প্রমাণ হিসেবে প্রকাশ করেছেন। এবং জলবাযু পরিবর্তন মোকাবিলা ইয়াং জেনারেশন কে ভাল ভাবে কাছে টানতে পেরেছন।

৫) বেশি অর্থ, কম সমস্যাঃ

এই বছর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য শুরুতেই বাইডেনের তহবিল প্রায় শূন্য ছিল, যার ফলে মানুষ মিডিয়ার উপর বেশি নজর রেখেছেন, করোনাকালীন সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো তেমন সহজ ব্যাপার ছিল না, অন্যদিকে ট্রাম্প তার প্রচারণা বাজেট প্রায় করেছিল শত কোটি ডলার, এপ্রিল মাসে এসে বাইডেন তার তহবিল জোগাড়ে জোরদান করেন এবং একটা সময় ট্রাম্পের থেকে তার তহবিল ১৪৪ মিলিয়ন ডলার বেশি হয়। করোনা মহামারীর কারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারার কারণে সবার নজর ছিল মিডিয়ার দিকে, এই সুযোগ টা কাজে লাগিয়েছেন বাইডেন। বাইডেন পক্ষ নির্বচনী বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের জর্জরিত করতে পেরেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের পদ্ধতি ছিল বড় ধরনের আর্থিক অপচয়।

One thought on “কেন হারলেন ট্রাম্প”

Leave a Reply