ক্যান্সার প্রতিরোধে আপেল

শাহিদ আবেদীন মিন্টু

আপেল একটি সুস্বাদু ফল।পাশাপাশি এর রয়েছে নানান ঔষধি গুণ। ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতি রোগ প্রতিরোধে বেশ সহায়ক এই ফল। এছাড়া শরীরের ওজন কমানো ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন এই ফল খেলে ৮টি স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাওয়া যাবে। যা আপনার জীবনকে করবে সুখময়।

১. কোলেস্টেরল কমায়

রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে পারে রসালো ফল আপেল।যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আপেল খাওয়ার উপকারিতা বিষয়ে ৪০ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন, যাদের রক্তে কোলেস্টেরল ছিল। তাদেরকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। ৮ সপ্তাহ ধরে এক গ্রুপকে দিনে দুইটি আপেল ও অন্য গ্রুপকে চিনি ও ক্যালোরি মিশ্রিত ফলের রস পান করানো হয়। ৪ সপ্তাহের বিরতির পর ফলের রস পান করানো লোকদের ৮ সপ্তাহ ধরে দিনে দুইটি আপেল খাওয়ানো হয়।অন্য গ্রুপের লোকদের পান করানো হয় ফলের রস। এই গবেষণায় দেথা যায়, দিনে দুইটি আপেল খাওয়া নারী-পুরুষের কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেকটা কমে গেছে। আপেলের সঙ্গে মাখন মেশান। এরপর তা স্নাকসের সঙ্গে খেলে পুষ্টি উপাদান পাবেন। এভাবে নিয়মিত আপেল খেলে কোলেসট্রোলের পরিমাণ কমবে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

২. ক্যানসার প্রতিরোধ

ইতালির গবেষকদের দাবি প্রতিদিন আপেল খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। তারা জানান, আপেলে রয়েছে রাসায়নিক উপাদান- ফেনলস ও ফ্লাভোনোইডস। এসব উদ্ভিদ উপাদান ফুসফুস, স্তন ও পাকস্থলির ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্যান্য ফলের পাশাপাশি আপেল রাখুন। এক টুকরা আপেলের সঙ্গে নারকেলের দুধ ও মাখন মিশিয়ে খেতে পারেন।

৩.ওজন কমায়

আপেল একটি আঁশ সমিৃদ্ধ ফল। একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে ৫ গ্রাম আঁশ, যার ২০ শতাংশ প্রতিদিন খেলে শরীরের ওজন কমবে। এর ফলে দেহ-মনে সজীবতা ফিরে আসবে।

৪. ব্লাড সুগার (চিনি) নিয়ন্ত্রণ

রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে গেলে নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়। হতে পারে ডায়াবেটিসের মতো সারা জীবনের রোগ। তবে একটু সচেতন হলেই এ রোগের হাত থেকে রেহায় পেতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস হয় না। তাই খাদ্য তালিকায় আপেল রাখলে রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়- এমনটাই দাবি গবেষকদের। তারা বলেন, আপেলে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে, যা শরীরে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। কিভাবে খাবেন- টেবিল চামচ পানি ও চা চামচ ম্যাপল সিরাপের সঙ্গে আধা চা চামচ পাই মশলা নিন। এরপর ছোট একটি আপেলের ওপর ঢালুন। সেটি ছোট কাচের পাত্রে রেখে ওভেনে রাখুন। এতে আরো এক টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে এটি ৩৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৪৫ মিনিট সেঁকে নিন যতক্ষণ না তা নরম হয়।

৫. পেশির ক্ষমতা বৃদ্ধি

মাংসপেশির শক্তির উপর নির্ভর করে একজন মানুষের দৈহিক সক্ষমতা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাংসপেশি গঠনে আপেল রাখতে পারে কার্যকরী ভুমিকা। গবেষণাটি প্রাথমিক হলেও, কয়েকটি প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে যে আপেলের খোসার প্রাকৃতিক পদার্থ ইউরোলিক অ্যাসিড ইঁদুরকে মাংসপেশীর ভর পেতে সাহায্য করেছিল। এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা একদল জাঙ্ক-ফুড-খাওয়ানো ইঁদুরকে ইউরোলিক অ্যাসিড দিয়েছিলেন, এর ফলে ইঁদুরগুলো পেশি অর্জন করেছিল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি ছিল।

৬. ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়ায়

আপেলের বিভিন্ন উপাদান ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করে্। এছাড়া শ্বাসনালীর রোগ নিরাময়ে আপেলের খোসা খুবই সহায়ক। তাই প্রতিদিনে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এই রসালো ফল।

৭.পেটের পীড়া নিরাময়

মানুষ প্রায়ই আমাশয় ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। এসব রোগ নিরাময়ে আপেলের আঁশ বেশ ভুমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

৮.দীর্ঘায়ু করতে সহায়ক

সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই- এটা আমরা সবাই জানি। পুষ্টিবিদরা মনে করেন, প্রতিদিন একটি আপেল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, যা আপনাকে সুস্থ রাখবে। ফলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

Leave a Reply