জলবায়ু পরিবর্তনে ইমেইলের প্রভাব

ফয়সাল আহমেদ

বর্তমান সময়ে তথ্য আদান-প্রদানের সব থেকে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইমেইল। আপনার অফিসিয়াল কাজ কিংবা ব্যক্তিগত কাজের কোন তথ্য পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পাঠানোর সহজ মাধ্যম হলো ইমেইল। আপনি প্রয়োজনে কোন তথ্য কাউকে পাঠালেন, সেই ব্যাক্তি তার কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আপনাকে ছোট করে একটি ধন্যবাদ বার্ত পাঠালেন। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন এই ছোট একটি বার্তার ফলে বিশ্বের জলবায়ু বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অফিসিয়ালি ঘোষণা এসেছে তারা কিভাবে এই ছোট ছোট ইমেইল বার্তা বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করার উপায় অনুসন্ধান করছেন। ফিনানসিয়াল টাইমস জানিয়েছে আমরা মানুষকে একদিনে উৎসাহিত করবো, ছোট ছোট ইমেইল বন্ধ করার জন্য।যেমন ধন্যবাদ মেইল টি বাদ দেওয়া যেতে পারে।
কিন্তু এখন দেখার বিষয় সত্যি কি এই ছোট ছোট ইমেইল বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করা যাবে? তবে যুক্তরাজ্যের মানুষ বরাবরই ভদ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, তারা প্রায় অধিকাংশ মানুষ কোন ইমেইল পাবার পরে ধন্যবাদ দিতে ভুল করেন না। তবে তারা যদি বিষয়টি জানে তাহলে তাদের অধিকাংশ মানুষ এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে বলে আশা করা যায়। এখন দেখার বিষয় এই ছোট একটি ইমেইল কীভাবে আমাদের জলবায়ু রক্ষা করে।
তবে চলুন দেখে আসি ইমেইল গুলা কীভাবে কার্বণ নিঃসরণ করে?

প্রথমত

বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন ইন্টারনেট হলো মেঘের মত। তবে বাস্তবতা হলো ভিন্ন আপনি যখন একটি ছোট ইমেইল পাঠান তখন সেটি একটি জ্বলন্ত ইলেকট্রনিক শক্তির মাধ্যমে যায়। আপনি যখন কোন মেইল পাঠান তখন সেটির জন্য ইলেকট্রিসিটির প্রয়োজন হয়। এবং যখন এটি কোন ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারে খোলা হয় তখনও ইলেকট্রিসিটি প্রয়োজন পড়ে। এবং এই ইমেইলটা যখন পাঠানো হয় তখন একটি সার্ভারে কিছু সময়ের জন্য জমা হয়, সেখানেও কিছুটা বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যয় হয়। এমন প্রতিটি মেইলের জন্য প্রায় ৪ গ্রাম কার্বনডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনার্জিরিটেইল কোম্পানি ওভো এনার্জি একটি গবেষণায় দেখেছে যুক্তরাজ্যের প্রাপ্ত মানুষ প্রতিদিন যদি একটি করে ছোট ”ধন্যবাদ সূচক” ইমেইল পাঠান তাহলে গড়ে প্রতিদিন ১৬৪৩৩ টন কার্বন নিঃসরন হয়। এবং যেটি প্রায় কয়েক হাজার ফ্লাইট এর সমান।

দ্বিতীয়ত

কোন মেসেজের পরিবর্তে যদি আমরা ইমেইলের মাধ্যমে লেখার সাথে কোন এটাচমেন্ট ফাইল পাঠাই, কিংবা ছবি পাঠাই, সেক্ষেত্রে সার্ভারে অনেক বেশি জায়গা লাগে যার ফলে বেশি ইলেকট্রিসিটি খরচ হয়, একটি ছবি পাঠাতে প্রায় ৫০ গ্রাম কার্বন নিঃসরণ হয়। তবে স্প্যাম মেইলে এই ধরনের মেইলের থেকে কম কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করে। কারণ অনেক সময় স্প্যাম মেইল আমরা অনেকেই খুলে দেখিনা। যেটি একটি সময় এমনি এমনি ডিলেট হয়ে যায়।তাই কার্বন নিঃসরণ কমায়।

তৃতীয়ত

আপনি যদি ৬৫ টি থেকে ৭০ টি মেইল পাঠান, তাহলে প্রায় ১৩৬ গ্রাম কার্বন নিঃসরণ হয়। যেটি প্রায় ১ কিলোমিটার গাড়ি চালানোর সমান। প্রতিদিন সারা বিশ্বে যত ইমেইল আদান-প্রদান হয় সেটি প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যক্তিগত নতুন গাড়ি রাস্তায় নামানোর সমান।যুক্তরাজ্যের ল্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওভো এনার্জীর গবেষণা পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। তারমতে জলবায়ু রক্ষায় আমরা যদি এই ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি তাহলে বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় আমরাও শামিল হতে পারবো। ওভো এনার্জি তাদের এই কাজের জন্য স্লোগান মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন সেটি হলো ”ধন্যবাদ দেবার আগে চিন্তা করুন” হয়তো আমরা এই ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে জলবায়ু সমস্যা সমাধান করে ফেলবো, তবে কিছুটা হলেও পরিবেশ রক্ষায় কাজ হবে। যেটি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক।যেটি আমাদের জীবনকে সহজ ও উন্নত করে তুলবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: