যে বাগান বদলে দিল রফিকুলের অসচ্ছল জীবনের গল্প

খলিল রহমান

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা গ্রাম। সবুজ-শ্যামল শান্ত এই গ্রামটির প্রকৃতিতে যেন মিশে আছে কমলার ঘ্রাণ। চার বিঘার একটি কমলার বাগান এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও যেন এনে দিয়েছে একটি নতুন মাত্রা।

মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের এই কমলা বাগানটি প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখতে অসংখ্য মানুষ। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা টসটসে কমলার দৃশ্য অনেককেই আবার উৎসাহিত করে কমলার বাগান করতে।

রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে চারা নিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে শুরু করেছেন কমলার বাগান। রফিকুলের হাত ধরেই এ অঞ্চলে দ্রুত ছড়িছে পড়ছে কমলার চাষ।

কীভাবে তিনি এই প্রত্যন্ত গ্রামে কমলার চাষ শুরু করেন জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ২০০২ সাল থেকেই নার্সারি ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন। তার নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের গাছ থাকলেও তিনি এ ব্যবসা করে ঠিক মতো চলতেই পারতেন না। অভাব যেন লেগেই থাকতো। টাকার অভাবে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম। কিন্তু হাল ছাড়তে রাজি নন রফিকুল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের বাগান দেখে তার কমলা চাষের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। তারপর তিনি ভারতের দাজির্লিং থেকে ২০০ চারা নিয়ে এসে ২০১৬ সালে শুরু করলেন এই কমলার বাগানটি। ৪ বিঘার এই ছোট্ট বাগানটিই বদলে দিল রফিকুলের অসচ্ছল জীবনের গল্প।

এই ছোট্ট বাগান থেকেই জন্ম হয়েছে রফিকুল ইসলামের ৬৫ বিঘার বিরাট মাল্টা ও কমলার বাগান। তার নার্সারির চারা এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

Leave a Reply