মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান, অং সান সু চি আটক

নতুনপাতা : নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মিয়ানমারে উত্তেজনা বাড়ার পর, দেশটির ক্ষমতা দখল করল সেনাবাহিনী এবং এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। অং সান সুচিসহ উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

সামরিক মালিকানাধীন টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় বলা হয়- ক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে।

গভর্নিং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এর মুখপাত্র মায়ো নিয়ান্ট সোমবার বলেন, অং সান সুচি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং অন্যান্য নেতাদের সকালেই আটক করা হয়েছে। পরে সোমবার এনএলডি জানিয়েছে যে অং সান সু চি জনগণকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অং সান সুচির স্বাক্ষরিত এনএলডি-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ দেশকে একনায়কতন্ত্রের অধীনে ফিরিয়ে আনবে। আমি জনগণকে অনুরোধ করছি এটি গ্রহণ না করে সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মীদেরও আটক করা হয়েছে। মোবাইল এবং ফোন নেটওয়ার্ক ও অনেক রাষ্ট্রীয় মিডিয়াগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের এ ঘটনার তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক সংস্কারে মারাত্মক আঘাত। তিনি সকল নেতাকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবাধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তনি ব্লিংকেন এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা বার্মিজ সামরিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- সমস্ত সরকারী কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের নেতাদের মুক্তি দিন এবং বার্মার জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করুন যেটি ৮ নভেম্বর গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রকাশিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া জানায় পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের মতো আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ।

বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াতে ভারত সর্বদা তার সমর্থনে অবিচল । আমরা বিশ্বাস করি যে আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবশ্যই বহাল থাকবে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

ছবি ও তথ্যসূত্র : আল জাজিরা

Leave a Reply