“ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার

 মস্ত ফ্ল্যাট-এ যায়না দেখা এপার-ওপার

 নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী

 সবচেয়ে’ কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি

 ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম

 আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম”

সেদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে মোবাইলটা ঘাটছিলাম ।হঠাৎ নচিকেতার এই গানটা দেখে মনে পরে গেলো অনার্স ফাইনাল ইয়ার এর কথা। ।ইংরেজি সাহিত্যে পড়তাম বলে আমার কোনো ইন্টার্নি ছিলো না। আমার বন্ধু সমাজ কল্যানে পড়তো,ওর ইন্টার্নি পড়লো আগারগাঁ “বাংলাদেশ প্রবীন হিতৈষী সংঘে” । রোজ কাজ থেকে ফিরে নানান রকম গল্প করতো ঐ সব একা থাকা বয়স্ক মানুষগুলোর।আমি অন্যমনস্ক হয়ে ওর কথাগুলো শুনতাম আর ভাবতাম,বাবা মাকেও নাকি পাগলাগারদ আর চিড়িয়াখানার মতো কোথাও একটা একলা রাখা হয় ঝামেলা এড়াতে ।এটাই সেই জায়গা যার নাম বৃদ্ধাশ্রম ।

আমার বন্ধুকে বললাম ,একদিন নিয়ে যাবি আমাকে তোর কাজের জায়গায় ?আমি ওনাদের  দেখতে চাই, কথা বলতে চাই ।আগে থেকেই একটু আধটু লেখার প্রবনতা ছিল কিন্তু বিশ্বাস করুন কোনো ফিচার বা গল্প লিখবো বলে যেতে চাইনি ।শুধুমাত্র মানবিক বেদনাবোধ আর তাড়না থেকে এক অবাক হওয়া অনুভূতি নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম । আমার বন্ধু বলল , আগামীকাল ডিরেক্টর স্যারের অনুমতি নিয়ে আসি তারপর তোকে নিয়ে যাবো।  

যেদিন গেলাম সেদিন ঐ জায়গাটা আমার একদম ভালো লাগেনি ।কেমন যেন নীরব নিথর একটা  অনুভূতি । ডিরেক্টর স্যার আমার সাথে গল্প করলেন ,অনুমতি দিলেন পুরোটা ঘুরে দেখবার।আমি এক’পা দু’পা করে হাঁটছিলাম আর এর-ওর ঘরের দিকে তাকাচ্ছিলাম। কেউ কারো সাথে কথা বলেন না তেমন একটা । যে যার কাজে ব্যস্ত ।কেউ কাপড় গোছাচ্ছেন,কেউ চা খাচ্ছেন কেউবা খবরের কাগজ পড়ছেন ।এক ভদ্রলোককে দেখলাম, জগিং ড্রেসের সাথে পায়ে কেডস জোড়া গলিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন হাঁটতে ।কথা বলতে যেয়ে উনার চেহারায় একটা রাগান্বিত রেখার টান টান দাগ দেখতে পেয়ে পিছু ফিরে এলাম।শুধু জানলাম উনি একজন  সাবেক সচিব।

পাশের ঘরের দরোজায় দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলাম,

আন্টি একটু আসতে পারি ?

এসো ।চা খাবে?  

 না থাক ।

আপনি কি করতেন আন্টি ?

একটা কলেজে পড়াতাম ।

ছেলে মেয়ে ?

এক ছেলে এক মেয়ে ।দু’জনেই দেশের বাইরে থাকে।মাঝে মধ্যে টেলিফোনে কথা হয় ।

ওরা আপনাকে দেখতে আসে ?

ওরা তো অনেক ব্যস্ত ।সে সব দেশে তো মেশিনের মতো জীবন মা,তাই আসার সময়  পায় না।

আপনি গিয়েছেন কখনো তাদের কাছে ?

নাহ!একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরোলো সেই নাহ শব্দ থেকে যার খানিকটা গরম বাতাস আমার গায়েও এসে লাগলো।

এখান থেকে যে কোনো সময় বাইরে যেতে পারেন মানে ঘুরতে ইচ্ছে করে ?

পারি তবে যাই না।কোথায় যাবো ? তাছাড়া বয়স হয়ে গেছে।কিছু একটা হয়ে গেলে কে দেখবে বলো?যাবার জায়গা থাকলে কি এখানে আসতাম ?

আর কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হলো না।মনে হলো কি লাভ কথা বলে?বরং কাঁটা ঘায়ে নুনের  ছিটা দেয়া ।আমি তো জানি এঁদের কেউই শখ করে এখানে থাকতে আসেননি। নিতান্ত একাকীত্ব আর অসহায়ত্ব থেকেই বেছে নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রম নামক এই নিরাপদ স্থান । কারন এখানে যারা আছেন তাদের প্রত্যেকেই অবসর প্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন ।স্বামী-সন্তান-সংসার সব ছিলো ।আত্মীয় –স্বজন-বন্ধু- নামিদামী সহকর্মী, পাড়া –প্রতিবেশি কত আপনজন ছিল একটা সময়  চারপাশ ঘিরে ।আজ কি একা কি নিঃসঙ্গ জীবণ!

সেদিন আমার এক বন্ধু বলছিল দুনিয়াটাই নাকি স্বার্থপরতার জায়গা।এখানে যা কিছু হয় সবটা নিজের স্বার্থ আর  প্রয়োজনে ।এমনকি ও আরো বলছিল, পৃথিবীতে বাবা-মাও নাকি সন্তান নিয়ে আসেন কখনো কখনো  নিজের প্রয়োজনে ।আমি ওর ঐ শেষ লাইনটার অর্থ বুঝলাম না।তবে যাদের বাচ্চা হয়না তারা এত হতাশ কেন হন বুঝিনা ।যে সন্তান কে বাবা মা নিজের জীবনের সবটুকু আদর ভালবাসা স্নেহ মায়া মমতা দিয়ে বড় করে তোলেন, এমনকি শেষ সহায় সম্বলটুকুও দিয়ে দেন  তারাই একটা সময় বাবা মা কে দেখেন না ,বোঝা বা ঝামেলা মনে করেন।

আজকাল তো মিডিয়ার কারনে  প্রায়ই  আমরা দেখতে পাই এখানে ওখানে শিশু ভ্রুনের ন্যায় বৃদ্ধ মা –বাবাকেও রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যান অনেক অমানুষরুপী ছেলেমেয়েরা ।এরা না হয় অশিক্ষিত বর্বর কিন্তু যারা শিক্ষিত, জাতির বিবেক তাদের সংখ্যাও তো এই তালিকায় কম নয়।সব চলে ঠিকঠাক নিজের ছেলে মেয়ে বউ অথচ চলেনা কেবল নিজের বাবা মায়ের ভরনপোষনের দায়িত্বটুকু  ।

ঢাকা আগারগাঁ “বাংলাদেশ প্রবীন হিতৈষী সংঘে”যারা থাকেন তাদের না হয় এককালীন জমানো টাকা ছিলো বা কিছুটা দ্বায় এড়াতে হলেও ছেলে মেয়েরা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন বলে তাঁরা একাকীত্বের অভাব বোধ করলেও খাওয়া পড়ার অভাব বোধ করছেন না কিন্তু যারা হতদরিদ্র যাদের সম্বল বলতে কেবল ওই ছেলেমেয়েরাই ছিল তারা যখন মা বাবা কে রেখে আসছেন  খুব সাধারণ এক বৃদ্ধনিবাসে, সেইসব মা-বাবাদের দিন কেমন কাটছে সেটা ভাবতে গেলে মনে হয় পৃথিবীতে সন্তান জন্ম দেয়াটাই এক ধরনের পাপ।

আমার নিজের গ্রামে আমি এমন অনেক পরিবারে বাবা মাকে  নিগৃহীত হতে দেখেছি ।একটা সময় আসে যখন বাবা মা কে ভাগাভাগি করা হয় সংসারে ।হয়ত বড় ছেলের ভাগে পড়েন মা আবার ছোট বা মেঝো ছেলের ভাগে পড়েন বাবা । কারণ দু’জন মানুষকে এক সঙ্গে ভরণপোষণের সক্ষমতা তাদের নেই । আমার কাছের আত্মীয়দেরও মধ্যেই আমি এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখেছি । সারা দিন স্বামী স্ত্রী বুড়াবুড়ি এক সাথে থাকছেন গল্প করছেন অথচ খাবার সময় দু’জন ভাগ হয়ে চলে যাচ্ছেন আলাদা আলাদা ছেলের ঘরে ।বিশ্বাস করুন আমি লিখতে পারছি না ,আমার চোখ  ভিজে আসছে ।

একবার ঈদের দিন আমাদের বাড়িতে সম্পর্কে আমার এক চাচা এলেন ।গায়ের পোশাক আশাক খুব মলিন।আমার মা সেই চাচাকে খেতে দিলেন রান্না ঘরে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে ।মা জিজ্ঞেস করলেন ,ভাই এখন কোন ছেলের ভেতর (সাথে)  খান?

আমার সেই চাচা বললেন, এহন খাতেচি (খাচ্ছি) ছোট ছাওয়ালের ( বিতর) সাথে ,এক মাস অয়া (হয়ে) গেলি আবার বড় জনের বিতর (সাথে) খাবো। আমি পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছিলাম। উনি বলছিলেন,যখন যে ছেলের সাথে খান বা থাকেন ততদিন সেই ছেলে ভালো মাছ বা মাংস কেনেন না।ওনার খাওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ভালোমন্দ বাজার করেন।আমার এত কস্ট হচ্ছিলো শুনে ।উনি নিজেও কাঁদছিলেন কথাগুলো বলতে বলতে।

আচ্ছা গরীব হওয়ার সাথে ভালবাসা কমে যাওয়ার কোনো অর্থ আছে কি ?আমি যাই খাই শাক নুন ডাল ,আমার বউ –ছেলেমেয়ের যদি দু’মুঠো ভাত হয় তাহলে বৃদ্ধ মা-বাবার একটু নুনভাত জুটবে না ? সেটা হোক না  কম আর বেশি?

আজকাল যারা শহরে ফ্ল্যাট কেনেন তারা না ভাবেন বাবা মায়ের জন্য একটা থাকার ঘরের কথা ,না ভাবেন বাসার কাজের লোকের কথা।মানবতা আজ বাজারে বিক্রি হয়ে যাওয়া পণ্যের মতো । গ্রামের বাবা মায়েরা খুব সহজ সরল হোন । তারা কখনো নিজেদের ভবিষ্যত বা আখের গোছানোর কথা ভাবেন না ।যা কিছু করেন সারা জীবণ ধরে খেয়ে না খেয়ে সব ব্যয় করেন ছেলেমেয়েদের পেছনে ,যেন ছেলেমেয়েরা  মানুষের মত মানুষ হতে পারে ।অথচ সেই ছেলেমেরাই বড় হয় কিন্তু মানুষ আর হতে পারেনা ,তাই যদি হতো তাহলে আমাদের মতো আতিথিওয়তাপ্রিয় সম্প্রীতির দেশে  দিনে দিনে এত বৃদ্ধাশ্রম নামক মানব চিড়িয়াখানা তৈরি হতো না। হ্যাঁ যারা  নিতান্তই অসহায় ,যাদের আপনজন বলতে দুনিয়াতে কেউ নেই, থাকা খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই তাদের জন্য সরকার বা মানবতাবোধ সম্পন্ন বিত্তশালী মানুষেরা বানাতেই পারেন একটা মানবিক নিরাপদ আশ্রয় নামক আবাসন।তাই বলে যারা  শিক্ষিত সচেতন বড় বড় চাকুরে, তারা কেন বাবা মা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবেন? যে বাবা মা সন্তানকে ভালবাসা স্নেহ মায়া মমতা দিয়ে বড় করে তোলেন এমনকি শেষ সহায় সম্বলটুকুও দিয়ে দেন  তারাই একটা সময় বাবা মা কে দেখেন না ,বোঝা বা ঝামেলা মনে করেন।

৫০ টাকার একটা গল্প মনে পড়ল।( গল্পটি সংগৃহীত)  একটা গলির ভেতর গাছের সাথে লেখা ,  ” আমার ১টা ৫০টা টাকা হারিয়ে গেছে, খুঁজে পেলে দিয়ে যাবেন । গাছতলার শিবমন্দিরের পাশের গলিতে সোজা ঢুকে ২য় বাদিকে থাকি ।“

দূর্গা মন্ডল।

লেখাটা চোখে পড়লো অভিনেতা এবং উপস্থাপক মীরের  । তিনি একজন পথিক কে জিজ্ঞেস করে সোজা গলি দিয়ে হাতের বায়ে ঢুকে খুব সাধারন জীর্ণ শীর্ণ  একটা ঘর দেখতে পেলেন ।

ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ডাকলেন দূর্গা মাসি দূর্গা মাসি ।

সাড়া না পেয়ে বললেন বাড়িতে কেউ আছেন ?

ভেতর থেকে একটা অস্ফুট শব্দ বের হলো –কে বাবা?                      

দূর্গা মাসি আছেন?

ভেতরে এসো ।ভদ্রমহিলা মেঝেতে পাতা বিছানা থেকে উঠবার চেস্টা করলেন ।

মীর তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন ,দাঁড়ান দাঁড়ান …

না না ঠিক  আছে – আসলে বাতের ব্যথাটা এতো বেড়েছেনা বাবা   , ঐ টুল টা টেনে নিয়ে বসো ।বলো বাবা বলো ।

 আসলে আমি আপনার বাড়ির সামনে একটা ৫০ টাকার নোট পড়ে থাকতে দেখলাম, সেটাই আপনাকে ফেরৎ দিতে এলাম।

আমার বাড়ির সামনে?

না- ঠিক আপনার বাড়ির সামনে নয় ।বাড়ির সামনে লাগোয়া যে গলিটা সেই গলির সামনে নোট টা পড়ে ছিল।

তুমি কি এখানে প্রথম এলে ? তুমি থাকো কোথায়?

আমার বাড়ি খড়গপুরে ।এখানে মাসির বাড়ি এসেছিলাম ।যেতে যেতে দেখি নোটটা পড়ে রয়েছে। তাই নোটটা ফেরত দিতে এলাম।

ও –তুমি আমার ছেলের মতো ।আমার বাড়িতে প্রথম এলে।আমি কি তোমাকে খালি মুখে যেতে দিতে পারি?

না -না আপনি ব্যস্ত হবেন না।

দূর্গা মাসি কাত হয়ে বিছানার পাশে রাখা তক্তাপোষ থেকে হাত বাড়িয়ে কিছু একটা নিলেন  ,কাল আমার ছেলের জন্মদিন ছিল ।পায়েস করতে পারিনি ।তাই হারুকে দিয়ে মন্দির থেকে প্রসাদ আনিয়েছিলাম ,একটু প্রসাদ খাও বাবা। ছেলে যদি এসে শোনে তুমি শুধো মুখে চলে গেছো তাহলে আমাকে খুব রাগ করবে ।বলবে মা ,বয়েস হয়েছে তোমার ,কিচ্ছু মনে থাকে না।

আমি উঠবো ।এই বলে পকেট থেকে একটা ৫০ টাকার নোট বের করে মাসির  হাতে দিয়ে বললেন ,আপনার টাকাটা !

ওটা  তুমি রেখে দাও বাবা।টাকাটা আমি পেয়ে গেছি ।রোজ কেউ না কেউ আমাকে টাকাটা খুঁজে দিয়ে যায় ।

এবার আমি একটা কথা বলি ?

বলো বাবা।

আমি যেমন আপনার ছেলের মতো আমাকে না খাইয়ে যেতে দিলেন না তেমনি আমিও আপনাকে খালি হাতে রেখে এখান থেকে যেতে পারব না। মিস্টির প্যাকেট দুটো মাসির হাতে তুলেদিলেন।

আবার এসব কেন বাবা!

কাল আপনার ছেলের জন্মদিন ছিল ।ধরে নিন আমি সেটার জন্য দিলাম।আর এই টাকাটা আপনিই রাখুন ,বলেই মাসির হাতের মুঠোয় টাকাটা গুজে দিলেন।

এরই মধ্যে হারু এলো ঘরে ।মাসিমা বললেন ,হারু উনাকে একটু চা দে।

আমার একটা কাজ করে দিবে বাবা ?

হ্যাঁ বলুন।

যাবার পথে মোড়ের মাথায় লেখা ঐ পোষ্টার টা একটু খুলে ফেলবে বাবা ? জানিনা কে বা কারা ঐ পোষ্টার টা লিখে রেখে দিয়েছে।

ফেরার পথে মীর দেখলেন একটি মেয়ে গাছের কাছে দাঁড়িয়ে পোষ্টার টা পড়ছে।মাথা নীচু করে মীর হেঁটে যাচ্ছিলেন ।মেয়েটি বলে উঠলো- দাদা শুনছেন ?

 মীর মেয়েটিকে দূর্গা মাসির বাড়ির পথ টা বলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন সেই পোষ্টার টার দিকে ।ইতিমধ্যে হারু সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো আর বলছিল ,দাদা চা টা ঠিক ছিল ?

হারুদা শোনো ,দূর্গা মাসির ছেলে কোথায় থাকেন ?

হাহাহা দূর্গা মাসির ছেলে এক বছর আগে চলে গেছে।কোথায় গেছে তাও জানিনা ,কবে ফিরবে তাও জানিনা।

আজ একটা ৫০ টাকার জন্য  একজন মায়ের সাথে পরিচয় হলো ।অথচ ছোটবেলায় বাবার কাছে  কাছে আমার বয়স জানতে চাইলে বয়স তো দূর জন্মদিনটাই ঠিক করে বলতে পারতো না।কিন্তু মা ছেলের জন্মদিনের পায়েস থেকে ছেলের পরীক্ষার খারাপ নম্বর লুকিয়ে রাখা -যাতে বাবার কাছে বকুনি না খাই এসব ই করেছে ।

আজ আবার বুঝলাম মায়েরা মিথ্যে কথা বলে। মায়েরা চান না তার সন্তানকে কেউ খারাপ বলুক।এই পোস্টারটা কে লিখেছে আমার জানা নেই তবে এই পোষ্টারটা লাগানো থাকলে যদি এরকম কোনো মা রোজ তাঁর হারানো টাকা খুঁজে পান তাহলে পোস্টারটা থাক না ,ক্ষতি কি ?হয়ত আমার মতো আরো অনেকের সাথে একটা সামান্য ৫০ টাকার বিনিময়ে হারানো মাতৃত্বের পরিচয় হবে ।কথা বলে হেঁটে চললেন মীর আফসার আলী …”

রয়ে গেলো পোষ্টার টা একজন মায়ের জন্য হাজারো সন্তানের কাছে। গল্পটা হয়তবা এখানেই শেষ কিন্তু আমাদের এইসব অসহায় মা বাবাদের গল্প কবে হবে শেষ ?এই যে আমরা প্রতি বছর ঘটা করে অনেকেই লোক দেখানো মা দিবস’ বাবা দিবস পালন করি অথচ সারা বছর কি একটিবার  ও খোঁজ নেই কেমন আছেন তারা ? কি ইচ্ছে করে তাদের ? জানতে চাইনা ,সময় দেইনা এমনকি মুখ ফুটে কোনোদিন বলিও না ভালবাসি ।ভালবাসা কখনো কখনো প্রকাশ করতে হয় বৈকি ।কোনো বাবা মাকেই যেন নাড়িছেঁড়া ধন প্রিয় সন্তানকে ছেড়ে একাকী থাকতে না হয় নির্জন নিস্তব্ধ আপনজনহীন কোনো বৃদ্ধাশ্রমে ।ভালোবাসায় আষ্টেপৃষ্ঠে থাক সন্তানের সাথে মায়ের আঁচলের বন্ধন ,বাবার পরিশ্রান্ত ঘামে ভেজা শরীর। ।পৃথিবীর সব বাবা মায়েরা ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন এই প্রার্থনা করি অহর্নিশ ।

রোজিনা রাখী

সিনিয়র এক্সিকিউটিভ

এসইউবি

Leave a Reply