গাজীপুরে সূর্যমুখীর খামার হয়ে উঠছে দর্শনীয় স্থান

বোরহান মেহেদী

ফাল্গুনের ঝরাপাতার শব্দে শীতকে ছুটি দিয়ে, এসেছে বসন্ত। গাছে গাছে নতুন পাতার সমারোহ। গ্রামবাংলার বাতাসে যেন আমের মকুলের গন্ধ। ভোরের আকাশে উঁকি-ঝুকি দিয়ে জানান দিচ্ছে প্রাণ জাগরণের মাদল দিনের বার্তা।
শীত-বসন্ত জুড়ে রয়েছে বাঙালির আবহমান কালের ঐতিহ্য আর মধুর সরসি সম্পর্ক। যা প্রতিটি মানুষের প্রাণের অন্দরে জেগে থাকা নতুনের জয়গান। পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনের আগমনকে আকঁড়ে ধরা।
আর এবার এই বসন্ত সাক্ষাতে ভিন্ন মেজাজ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম গঞ্জে। দীর্ঘ করোনাকালিন গৃহ অবরুদ্ধতায় মানুষের দূর্বিসহ সময় কাটছে। এই বন্দি দশা থেকে একটু মুক্ত করতেই সময় সুযোগে ঘর ছেড়ে বাহিরে যেতে সবাই যেন ব্যাকুল।
কেউ ছুটছে পিকনিকে কেউবা দর্শনীয় কোথাও। অথবা যেখানে ফাঁকা বা সামান্য সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সেখানে। ভ্রমণ পিয়াসু মন সুন্দর আবর্ষনীয় জায়গা খুঁজে নিতে ভুল করছে না।
তেমনি বেড়াতে গিয়ে সাক্ষাৎ হলো নজর-কাড়া এক সূর্যমুখি বাগানের। যেন সূর্যের বিরামহীন হাসির ঢেউ লেগে আছে মাঠজুড়ে। এটি হচ্ছে গাজীপুরের কালীগঞ্জের র্দূবাটি গ্রামের জসিম উদ্দিন এর প্রদর্শনির সূর্যমুখী খামার বাগান।
চোখের পলকে সূর্যমুখির হাসি যেন থামছেই না। হালকা বাতাসে কেবল দোলছে আর হাসছে। সূর্যমুখী ফুলের দোলায় সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠছে সমগ্র এলাকা।
গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দূর্বাটি গ্রামের ওই খামারে গিয়ে জানা যায়, নিজস্ব ১ বিঘা জমির ওপর পরীক্ষামূলকভাবে গড়ে তুলেছেন এই সূর্যমুখী ফুলবাগান বা খামার। মূলত: ফুলবীজ থেকে তেল সংগ্রহের জন্যই গড়েছেন এই সূর্যমুখি খামার। 
খামারের মালিক জসিম উদ্দিন বকুল দুর্বাটি গ্রামের চট্রগ্রামের একটি টি স্ট্রেটের ম্যানেজার মেজবাহ উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ করে একটি বিদেশী এয়ারলাইনসে চাকরি করছেন। তার মতে ইচ্ছেই বড় শক্তি। শুরু করলেই স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
তিনি বাগানটির গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিকভাবে তৈল উৎপাদনের জন্য । এটি তার একটি উদ্যোগ। সফল হলে বৃহৎ আকারে সুর্য্যমুখী চাষ করবেন। জসিম ঢাকায় থাকলেও ছুটির দিনগুলি তিনি এখানেই কাটান। তিনি সূর্য মুখী চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফলাদি ফসলেরও চাষবাস করতে চেষ্টা করছেন।
যেমন- রক মিলান, বাঙ্গী, হলুদ জাতের তরমুজ, বারী-৬ মুগডাল, ব্রী-৯২ ধান, মাল্টা, কমলা, লেবু, লতিরাজ কচু ইত্যাদি।
তিনি জানান, মাটির ওপর যে তাপ পরিবাহী মালচিং ফ্লিম, তা মাটির নিচের তাপকে নিয়ন্ত্রনণ রাখে। এই পদ্ধতিতে কোন মজুর লাগে না। তিন মাস পর বাঙ্গী জাতীয় ফল রক মিলান ও হলুদ জাতের তরমুজ সম্ভব। আর সূর্য মুখী চাষের সময়সীমা মাত্র ৩ মাস। এসময় শেষে ফুলের বীচ থেকে তেল উৎপাদন করা সম্ভব। সূর্য মুখী চাষে মোট ব্যয় হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। সুর্য্যমুখী চাষ করে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন বলে তার আশা।
বিকেল হলেই এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে দল বেঁধে সুর্য্যমুখীর এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে এসে মানুষ। এ ছাড়া কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ সংলগ্ন মাঠেও রয়েছে আরো একটি বাগান। এই বাগানটি ঢাকা-কালিগঞ্জ সড়কের পাশে থাকায় দিনভর  দর্শকদের ভিড় লেগেই থাকছে।

Leave a Reply