আহমেদ তানভীর-এর গল্প ‘ব্র্যান্ড চয়েস’

এক.
: আমজাদ ভাই, কোনটা চলবে? বেনসন না মার্লবোরো?
: আমার কোনো ব্র্যান্ড চয়েস নাই। সময়মত খালি জিনিস হইলেই চলে। নেশাডা লাফায়া উঠলে মাথা ঠিক থাকে না। তখন একটা কিছু দিয়া ভেতরের খাই খাই বাঘটারে সামাল দেয়া ফরজ হইয়া যায়।
: জি ভাই, তাহলে মার্লবোরোই নেই?
: নেন। শোনেন জাহিদ সাহেব, জীবন তো একটাই। অতো বাছবিচার কইরা কিন্তু চলতে পারবেন না। যেমন ধরেন, আল্লাহ না করুক আজকে বাসায় গিয়ে দেখলেন ভাবী অসুস্থ, খাবার বাইরে থেকে আইনা খাইতে হবে। আপনি বাইরের খাবার পছন্দ না করলেও ওই মুহূর্তে কিন্তু আপনি ওইটা খাইতে বাইধ্য। জাস্ট একটা এগজাম্পল দিলাম। এ রকম ব্যাপার অহরহ আপনি ফেইস করবেন, আসলে এইসব আমাদের ফেইস করতে হয়।

জাহিদের চাকরির বয়স বছরখানেক প্রায়। মাস চারেক আগে বিয়ে করেছে, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। মায়ের পছন্দ করা মেয়েকেই বউ করে ঘরে তুলেছে। পাশের গ্রামের মেয়ে। নিলির মত বউ পেয়ে বেচারা বেশ আহ্লাদিত। অফিসে কাজ করছে মন লাগিয়ে। এ নিয়ে তার উপলব্ধি হলো, নিলির মত লক্ষ্মী বউ ঘরে থাকলে অফিসটাকেও কেমন যেন সংসার সংসার লাগে; কাজে ক্লান্তি আসে না, এনজয় করা যায়।

অফিসে কারো সাথেই তেমন মাখামাখি নেই জাহিদের। চুপচাপ মনিটরে চোখ রেখে কাজ করে যায়। কাজের ব্যাপারে সাংঘাতিক সিরিয়াস সে। বিয়ের সময় ছুটি নিতেও খারাপ লেগেছিলো খুব। আহা, এই কদিন হয় কাজগুলো পড়ে থাকবে আর না হয় অন্য কাউকে করতে হবে। ছুটি কাটানো শেষে যেদিন প্রথম অফিসে গেলো, বড় করে একটা হা হা মার্কা হাসি দিয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলেছিলো সিনিয়র অফিসার আমজাদ ভাই, ‘কী, জাহিদ সাহেব; আছেন কেমন? চেহারা তো মাশাল্লাহ চিকচিক করতাছে। বিয়াশাদি তো করলেন, এইবার আমাগোরে নিয়া বড় কইরা উড়াধুরা একটা পার্টি দেন।’
: জি ভাই, দোয়া করবেন।
: দোয়া তো করতেই হইবো, কিন্তু খালি মুখে কি দোয়া করন যায়?
জাহিদ কিছু বলে না। ঠোঁট দুটো ঈষৎ ফাঁক করে সামান্য হাসে শুধু। সে হাসিতে কিছুটা অপারগতা, কিছুটা লজ্জা আর সঙ্কোচের মিশ্রণ। কত টাকাই আর বেতন পায় সে! টেনেটুনে কোনোরকমে মাস চলে যায়। নিলিও যথেষ্ট হিসেব করে সংসারের সবকিছু সামাল দিচ্ছে। টানাটানির সংসার হলেও ভালোবাসার কোনো কমতি নেই জাহিদের সংসারে। হয়তো অনেকটা এ কারণেই অফিসের কোনো কাজে বোর ফিল করে না।

কদিন ধরে আমজাদ ভাই খুব যেচে কথা বলছে। লাঞ্চ আওয়ারে একসঙ্গে নিচে নামছে, ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে গল্প করতে করতে একসঙ্গে সিগারেট ফুঁকছে। মানুষটাকে ভালোই লাগে জাহিদের। একদম দিলখোলা। কেমন যেন আপন আপন মনে হয়, অনেক বেশি কেয়ারিং। জাহিদকে জুনিয়র বলে গণ্য করে না কখনও। ‘জাহিদ সাহেব’ বলে যখন সম্বোধন করে, খুব লজ্জা লাগে তার। দুদিন কাঁচুমাঁচু করে বলেছে, ‘আমজাদ ভাই, আমি আপনার অনেক জুনিয়র; ছোটভাইয়ের মতো। আমাকে তুমি করে বলবেন, প্লিজ; আর ওই ‘সাহেব’ শব্দটা আমার নামের সঙ্গে লাগবেন না।’
: হা হা হা, কী যে বলেন! আমি সিনিয়র জুনিয়র অতো বিবেচনা করি না, বুঝছেন? কাউরে সম্মান করতে পারলে দিলে শান্তি পাই।
এ কথা শোনার পর আমজাদ ভাইয়ের প্রতি জাহিদের শ্রদ্ধার পারদটা আরও এক ডিগ্রি ওপরে উঠে যায়। সিগারেট শেষ করে অফিসমুখী হাঁটতে হাঁটতে আজ আবার কথাটা বলে বসে আমজাদ ভাই, ‘জাহিদ সাহেব, পার্টি দিতে কইছিলাম আপনারে; ভুইলা গেছেন মনে হয়। কাজের চাপে থাকলে অন্য কিছু কত আর মনে থাকবো, বলেন! যাক গা, আমি আবার মনে করায়া দিলাম। তা, কবে দিতাছেন পার্টিডা?’
জাহিদ কিছুটা ভড়কে যায়। আমজাদ ভাইয়ের মতো একজন মানুষ একটা আবদার করেছে। আপন ভেবেই তো করেছে। কিন্তু পার্টি দেবার মতো সে সামর্থ্য কি তার আছে? খানিকটা সময় চুপ করে থেকে কী যেন ভাবে। সব কথা সবাইকে বলা যায় না। তবু কিছু কথা আমজাদ ভাইকে বোধহয় বলা যায়।

দুই.
: নিলি, কই গো… নিলি…
: আসছি…
: আরে, এদিকে এসো, দেখো কে এসেছে!
স্বামীর সঙ্গে মধ্যবয়সী একজন পুরুষ মানুষকে ঘরে ঢুকতে দেখে কিছুটা গুটিয়ে যায় নিলি। আঁচলটা টেনে লম্বা করে ঘোমটা দেয়। ধনুকের মত হালকা বেঁকে যাওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি লাজুক দেখায় তাকে। জাহিদের চেহারায় মৃদু খুশির চিহ্ন লেপ্টে আছে। ‘নিলি, উনি হচ্ছেন আমাদের অফিসের আমজাদ ভাই; তোমাকে তো অনেকবার বলেছি আমজাদ ভাইয়ের কথা।’ আমজাদের দিকে না তাকিয়ে নিচের দিকে তাকিয়েই মৃদুস্বরে সালাম দেয় নিলি। টুকটাক কথাবার্তা চলে। অকারণে ভীষণ বিব্রত বোধ করে নিলি, বারবার লজ্জায় নুয়ে যায়। চায়ের পানি বসাবার কথা বলে রান্নাঘরের দিকে গিয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। জাহিদের সাথে নানা অপ্রাসঙ্গিক কথা চলতে থাকে আমজাদের।
: আমজাদ ভাই, এভাবে আপনাকে বাসায় নিয়ে এসেছি বলে মনে কষ্ট নেবেন না, প্লিজ। এছাড়া আমার উপায় ছিলো না। আমার সামর্থ্যরে কথা তো আপনি জানেন। আমি কী করে পার্টি দেবো?
: আরে ভাই, বাদ দেন তো। আপনে অতো টেনশন করতাছেন কী কারণে? আপনে হইলেন গিয়া আমার আপনা মানুষ, আপনের লগে একটু আধটু মশকরা তো করতেই পারি, নাকি?
: তা ঠিক, কিন্তু আপনি যে আমার বাসায় এসেছেন, দয়া করে অফিসের কাউকে বলবেন না। অন্যরা কষ্ট পেতে পারে।
: আচ্ছা, বলবো না; ডরাইতাছেন কী জন্য? তয়, ভাই… আপনে বউ পাইছেন একখান মাশাল্লাহ! রাজকপাল আপনের। এমন হুরপরী বউ পাইলে আমি তো অফিস টফিস বাদ দিয়া সারাদিন বউয়ের আঁচলের কোণা ধইরা ঝুইলা থাকতাম। আর…
শেষ বাক্যটা শেষ করতে না করতেই ট্রে-তে করে চা-বিস্কিট নিয়ে ঢোকে নিলি। আমজাদের শেষ কথাটা তার কানে গেছে বলেই লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে।

তিন.
কদিন ধরে বড্ড মন খারাপ জাহিদের। ঘরে মন টিকছে না, অফিসের কাজগুলোও চূড়ান্ত পর্যায়ের বিরক্তিকর লাগছে। মন খারাপের কারণটাও জানে জাহিদ, কিন্তু কাউকে বলতে পারছে না। কারো কাছে শেয়ার করতে পারলে হয়তো কিছুটা হালকা হওয়া যেতো। কিন্তু এসব গোপন কথা কাউকে বলা যায় না, বলা উচিতও না। কপালে কব্জি ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে থাকে। এক সময় মনে হয়, আমজাদ ভাইকে বোধহয় বলা যায় কথাগুলো। ভাবতে ভাবতে ডেস্ক ছেড়ে ওঠে দাঁড়ায়। ঠিক এ সময়ই নাটকের সিকোয়েন্সের মতো পেছনের ব্লক থেকে বেরিয়ে আসে আমজাদ ভাই। কোনো দিকে তাকায় না, সোজা দরজার দিকে যায়। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে বেপরোয়া ভঙ্গিতে। পেছন থেকে অস্থিরতা নিয়ে ডাক দেয় জাহিদ, ‘আমজাদ ভাই…’
: ভাই, তাড়া আছে।
: কোথায় যাচ্ছেন? জরুরি কথা ছিলো।
: টিকাটুলি যাচ্ছি। কাল কথা হবে।
বেরিয়ে গেলো আমজাদ ভাই। জাহিদ তাকে পেছন থেকে ডাক দিয়েও অপরাধবোধে ভোগে। আহা, মানুষটার হয়তো জরুরি কাজের সময় এখন; পেছন থেকে ডাক দেয়া ঠিক হয়নি। মন খারাপের মাত্রাটা হঠাৎ করেই দ্বিগুণ হয়। একবার ভাবে, নিলিকে ফোন করবে। লাঞ্চ করেছে কি না জিজ্ঞেস করবে, এখন কী করছে জানতে চাইবে। মনের উচাটন অবস্থার দোলাচলে আর ফোন করা হয় না। শুধু সে কেনো ফোন করবে? ফোন তো এ সময়ে নিলিও করতে পারে। অকারণেই নিলির ওপর প্রচণ্ড অভিমান হয় তার।

গত কিছুদিন ধরে লাঞ্চ আওয়ারের পরপরই বেরিয়ে যাচ্ছে আমজাদ ভাই। টিকাটুলি যায়। জাহিদের বাসাও টিকাটুলিতে। আজ অফিসে তেমন কাজ নেই। জাহিদও বের হতে পারতো। আমজাদ ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করতে করতে যাওয়া যেতো। কিন্তু ভদ্রলোক যেভাবে তুফান মেইলের মতো বেরিয়ে গেলো, তাতে একসঙ্গে বেরুলেও গল্প করা আদৌ সম্ভব হতো কি না সেটা একটা প্রশ্ন। নানা রকম এলোমেলো ভাবনায় ঝিমুনি আসে জাহিদের। নিচে নেমে একটা সিগারেট আর চা খাবে বলে ওঠে দাঁড়ায়।

চার.
বাসায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটা মনমাতানো ফুরফুরে ঘ্রাণ এসে নাসারন্ধ্রে সুড়সুড়ি দিলো। নাক টেনে টেনে আবার ঘ্রাণটা নেবার চেষ্টা করে জাহিদ। ঘরের পরিবেশটা হঠাৎ করেই কেমন যেন অচেনা মনে হচ্ছে তার। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়েও নিলি ছুটে আসছে না, এ ব্যাপারটা আরও বেশি অদ্ভুত লাগছে।
: নিলি, এই নিলি…
: কী হয়েছে? এত চেঁচামেচি করছো কেনো?
একটা বড় রকমের ধাক্কা খেলো জাহিদ। নিলি তো এভাবে কথা বলেনি কখনও। কদিন ধরেই এমন অদ্ভুত সব আচরণ করছে। রাতের বেলা বিছানাতেও আগের মত সাড়া দিচ্ছে না। কাছে টানতে চাইলে পাশ ফিরে শোয়। কথায় কথায় রাগারাগি করে। কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হতেই ক্ষুধাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নিতান্ত অনিচ্ছায় ডাইনিংয়ে গিয়ে বসে জাহিদ। নিলির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিজে নিয়ে খাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সময় নিলি আসে। এক পলকের জন্য জাহিদ চোখ তুলে তাকায়। কোনোদিক থেকেই নিলির আচরণ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অস্বাভাবিক সাজগোজ করেছে, মেকাপ করেছে কড়া করে; জাহিদের গা ঘেঁষে দাঁড়াতেই মোহনীয় ঘ্রাণটার উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যায় জাহিদ। একটা দামি পারফিউম মেখেছে নিলি, ভুরভুর করে বেরুচ্ছে পাগল করা অপূর্ব সুবাস। কোনো কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় জাহিদ। মন খারাপের ওপর আরও মন খারাপ।

কিছুটা তন্দ্রা আর কিছুটা ঘোরের মধ্যে ফিসফিস কথার আওয়াজ কানে আসে। জাহিদ একটু সচকিত হয়। রুমের ওপাশে বড় আয়নাটার সামনে বসে আছে নিলি। বাম হাতে ফোন কানে ধরা, ডান হাতে লাল লিপস্টিক মাখছে ঠোঁটে। মিটিমিটি হাসছে আর মৃদু স্বরে কথা বলছে। বালিশের পাশ থেকে মোবাইল ফোনটা নিয়ে সময় দেখে জাহিদ। রাত সোয়া তিনটা। এত রাতে কার সঙ্গে কথা বলছে নিলি? এত সাজগোজই বা করছে কেনো? এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয় তার। প্রচণ্ড ক্লান্তিতে চোখ বুঁজে আসে।

পাঁচ.
অফিসের পরিবেশটা আর আগের মতো টানছে না আজকাল। কাজেকর্মেও মন বসছে না একদম। তবু কেনো জানি আজ সকাল সকাল অফিসে চলে এসেছে জাহিদ। আমজাদ ভাইয়ের ডেস্কে উঁকি দিলো। নাহ, এখনও আসেনি। আমজাদ ভাই এলে আজ সবকিছু খুলে বলতে হবে। নিলির বিরূপ আচরণে খুব কষ্ট হচ্ছে। কেমন যেন রহস্যময় আচরণ নিলির, অথচ আগে তো এমন ছিলো না। আমজাদ ভাই ফ্রি মাইন্ডেড লোক, সবকিছু তাকে বলা যায়। ভালো কোনো পরামর্শও মিলতে পারে। অপেক্ষায় থেকে থেকে ঝিমুনি আসে জাহিদের। মধ্যদুপুর পেরিয়ে যাবার পর ত্রস্ত পায়ে অফিসে ঢোকে আমজাদ ভাই। তখন প্রায় আড়াইটা। উঠে দাঁড়ায় জাহিদ, তার ভেতরের উত্তপ্ত কষ্টগুলো যেকোনো সময় আগ্নেয়গিরির লাভা হয়ে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় টগবগ করে ফুটছে। আমজাদ ভাইকে সব বলবে আজ।

আমজাদ ভাইয়ের ডেস্কের দিকে এগুতেই একটা প্রচণ্ড ধাক্কা খায় জাহিদ। নিজের ঘ্রাণশক্তিকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। সেই পারফিউমের ঘ্রাণটা ভেসে আসছে আমজাদ ভাইয়ের গা থেকে, গত রাতে যে ঘ্রাণটা ছিলো নিলির শরীরে। কিছু ভেবে পায় না জাহিদ। একটা কিছু বলার চেষ্টা করে, পারে না। নিজের ডেস্কে এসে ঝিম মেরে বসে থাকে অনেকক্ষণ। খানিক পরে আমজাদের ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়ায় অফিসের পিয়ন নসু মিয়া। আমজাদকে লক্ষ করে বলে, ‘স্যার, আইজকাও টিকাটুলি যাইবেন নাকি? রিকশা দেখুম?’
: নাহ, আজকে আর টিকাটুলি যামু না; টিকাটুলি থাইকাই আসছি। সকালবেলা ঘুম ভাঙতেই গা-গতর কামড়াইতেছিলো। এইসব গোপন গরম আমি সহ্য করতে পারি না। নেশা বড় মারাত্মক জিনিস। সময়-অসময় মানে না। টিকাটুলির বাতাসে একটু ঠাণ্ডা হইয়া আসলাম; বুঝলা, নসু মিয়া! বিকালের দিকে একটু ওইপাশে যামু। ভালো রেইটের জিনিস আছে কি না খোঁজ লাগাও। আজকে মাথা ঠিক নাই। শরীরের গরমে আমার মাথা একদম ঠিক থাকে না।
: স্যার, আপনের মতো মানুষে ওইসব জায়গায় যাওয়া ঠিক না। মানে স্যার, আপনারে ওইসব আজেবাজে জাগায় ঠিক মানায় না।
: আরে, নসু মিয়া! এইডা যদি তুমি বুঝতা তাইলে তো ভালোই আছিলো। দরকার কোনো আইন মানে না। ঘরের জিনিস তো খাইলাম ম্যালা দিন। বাইরের জিনিস একটু টেস্ট কইরা না দেখলে কেমনে অয়! আর তা ছাড়া তুমি তো জানোই, আমার কোনো ব্র্যান্ড চয়েস নাই। সময়মতো খালি জিনিস হইলেই চলে। নেশাডা লাফায়া উঠলে মাথা ঠিক থাকে না। তখন একটা কিছু দিয়া ভেতরের খাই খাই বাঘটারে সামাল দেয়া ফরজ হইয়া যায়।

নসু মিয়া বেরিয়ে যাবার পর বেশ ফুরফুরে লাগে আমজাদের। মোবাইল ফোনটা বের করে দ্রুত ডায়াল করে। ওপাশে রিসিভ হতেই নড়েচড়ে বসে আমজাদ।
: কী করো, নিলিসোনা?
: … … …
: ও আচ্ছা, তোমার পছন্দ হইছে? আমি তো তোমারে দিতেই চাই, তুমিই তো নিবার চাও না!
: … … …
: আরে, ওই হারামজাদার কথা বাদ দাও। রামছাগল একটা। কাগজে-কলমে তোমার স্বামী বইলাই ওরে কিছু কইতাছি না।
বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে ভেবে তাড়াতাড়ি বেরুবার জন্য উঠে দাঁড়ায় আমজাদ। শরীরের গরমে এখন মাথা ঠিক নেই তার। নসু মিয়ার দায়িত্ব এখন আমজাদ স্যারের জন্যে একটা রিকশা খুঁজে আনা।

আহমেদ তানভীর
সম্পাদক, সাহিত্যকাগজ ‘ৎ’ (খণ্ড-ত)

Leave a Reply