এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
আজ রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার- প্রচারণার শেষদিন। আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শেষ হচ্ছে প্রচারণা। তাই প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছেন শেষ দিনের প্রচারণা। দুদিন পরেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ। তবে শেষদিকে এসে আ. লীগের মেয়রপ্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়া ও প্রচারে বাধার দেয়ার অভিযোগ এনেছেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী। অনেকটা অভিযোগের মধ্যেই আজ শেষ হচ্ছে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা।
এবার এ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের (নৌকা) প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব শাহজাহান সিকদার এবং বিএনপির (ধানের শীষ) প্রার্থী মোঃ হেলাল উদ্দিন শাহ।
আসন্ন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণায় বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর দুই দফা লিখিত অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী। শুধু তা–ই নয়, কৌশলে তাঁকে ঘরবন্দী করে রাখা হয়েছে বলেও জানান ধানের শীষের প্রার্থী হেলাল উদ্দিন শাহ। তবে ভোট নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
বিএনপির প্রার্থী মোঃ হেলাল উদ্দিন শাহ বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন, পোস্টার পুড়ে ও ছিঁড়ে ফেলছেন, এমনকি হত্যার হুমকিও দিচ্ছেন। আমার পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে। আগের নির্বাচনের মতোই এবারও কেন্দ্র দখল করে নৌকার জয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও বরাবরে দুই দফা অভিযোগ দিলেও দুঃখজনক হলো, রিটার্নিং কর্মকর্তা একটিরও কোনো ব্যবস্থা নেন নি।’
এসবের পরেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হুমকি আসছে। তবে আমরা থেমে নেই। সব হুমকি ধমকি উপেক্ষা করেই নির্বাচনে টিকে থাকতে চাই। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিপুল ভোটে ধানের শীষ জিতবে।’
বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে আ. লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান সিকদার বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগের পুরোনো সংস্কৃতি থেকেই বিএনপির প্রার্থী এসব অভিযোগ করছেন। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নৌকার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তা দেখে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর পথ খুঁজছেন।’
প্রচারণায় বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীকে কোনো হুমকি-ধমকি বা বাধা দেওয়া হয়নি। তারা স্থানীয় ও জেলার নেতাদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় পৌরবাসী নৌকার সঙ্গে আছেন। তাই নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি প্রার্থী আবোলতাবোল বলছেন।
আ. লীগ প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান সিকদার নিজের জয়ের ব্যাপারে ৯০℅ আশাবাদী দাবি করে বলেন, ‘আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা তাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর কল্যাণ এবং শান্তির জন্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত ও পরিকল্পিত পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করবেন।’

সার্বিক বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার বিষয়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ এসেছে। সে বিষয়ে নির্বাচনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দুই জনের পাশাপাশি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৮ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৯১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৫১৯ জন ও নারী ভোটার ১২ হাজার ২৭২ জন।

Leave a Reply