বাড়ির ছাদে এক টুকরো সবুজ মাঠ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বড় বড় বিল্ডিংয়ের ভিড়ে দেশের শহরগুলোয় যখন কমে যাচ্ছে সবুজ গাছপালা, তখন অনেকেই বাড়ির ছাদেই গড়ে তুলছেন সবুজ বাগান। বুক ভরে নিশ্বাস নিতে এক একটা ছাদ যেন হয়ে উঠছে আবহমান বাংলার সেই চির চেনা এক টুকরো সবুজ মাঠ।
ঠাকুরগাঁয়ের ঘোষপাড়ার মিন্টু আহমেদও বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন এমন এক টুকরো সবুজ মাঠ। সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠলেই মনে হবে চলে এসেছেন গ্রামের কোনো এক বাগানে। ২ হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের ৬ তলার এই ছাদটিতে রয়েছে ১০০টি টবে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফুল, ফল ও সবজির গাছ। রয়েছে কয়েক রকমের আম, জাম, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, সফেদা, তেঁতুল, আঙুর, ড্রাগন, করমচা। শাকসবজির মধ্যে লাউ, টমেটো, শশা, ক্যাপসিকাম, কারিপাতা, লেটুস পাতা । ওষধি গাছের মধ্যে রয়েছে অ্যালোভেরা, আমলকী, অর্জুন। ফুলের মধ্যে আছে ক্যাকটাস, ডালিয়া, নাইটকুইন, অর্কিড, কাটা মুকুট, অপরাজিতা ইত্যাদি।

ঠাকুরগাঁও শহরের বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদে গড়ে উঠেছে এমন ছাদ বাগান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদে বাগান রয়েছে। প্রতিটি ছাদে ৬০ থেকে শুরু করে দুই শতাধিক ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে। তবে শহরের মুন্সিপাড়া,কলেজপাড়া,হাজিপাড়া,সরকারপাড়া, এলাকায় ছাদ বাগান করতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেশি।

জেলা কৃষি সুত্রে বলেন, ছাদে বাগান করার একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, ছাদ সব সময়ের জন্য ঠাণ্ডা থাকে। এতে এক দিকে পরিবেশ রক্ষা হয়, অন্যদিকে পারিবারিক সবজি চাহিদা ও পুষ্টির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা কৃষির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন। সে কারণে থেকে ছাদে চাষাবাদেও প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে যাঁরা ছাদে চাষ করেছেন, তাদের নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। গাছের টবে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা ছাড়াও নিয়মিত গাছের পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Leave a Reply