শিয়াল মুরগি খায় ঝোপের আড়ালে

প্রসপারিনা সরকার

আগে পাড়ায় ,সমাজে কোন অন্যায়কারী ,দূর্নীতিবাজ, খারাপ , অসৎ দুশ্চরিত্র, নীতিহীন মানুষের কুকর্ম ,অনাচার, ব্যভিচারে উদাহরণ হিসাবে বলত –এ মানুষ তো শিয়ালের চেয়েও অধম । শিয়ালের যে ধর্ম আছে, এর তো সে ধর্মটাও নাই। প্রচলিত কথা — “শিয়ালের ধর্ম আছে। শিয়াল যে মুরগি খায় ,তাও ঝোপের আড়ালে ।” আগে গ্রাম-গঞ্জের প্রায় প্রতিটি গৃহস্থের ঘরেই ছোট-বড় হাঁস মুরগির খোয়ার থাকত। যদিও বর্তমানে এই ছোট ছোট হাঁস মুরগির খোয়ারের সংখ্যা কমে এসেছে। ঘরে ঘরে আর এই খোয়ার দেখা যায় না । ।সন্ধ্যা হলেই ঘরের ভেতর হাঁস-মুরগি ঢুকে যাওয়ার পর গৃহস্থ সুন্দর করে ঘরের দরজা এঁটে দিত। যদি কোনদিন গৃহস্থ ভুল করে এই হাঁস মুরগির খোয়ারের দরজা এঁটে না দিত , আর সেদিনই শিয়াল কোত্থেকে এসে গৃহস্থের খোয়ার থেকে হাঁস মুরগি খপ করে ধরে অন্ধকারে জঙ্গলে নিয়ে যেত ।বাকী হাঁসমুরগির শব্দে গৃহস্থ জেগে উঠত এবং তাদের ভুলের জন্য আফসোস করত আর কষ্ট পেত। কারন শিয়াল নাকি কখনই নামমাত্র দরজা খুলতে পারলেও তাদের নীতির কারণে দরজা খুলে হাঁস-মুরগি টেনে নিত না । যদি খোয়ারের দরজা খোলা থাকতো কিংবা খোয়ার ভাঙা থাকত তখন শিয়াল খোলা দরজা ও ভাঙা জায়গা দিয়ে হাঁস মুরগি টেনে নিয়ে যেত । শিয়াল এই চুরি করা হাঁস মুরগি কখনও প্রকাশ্যে খেত না । মানে রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে বা খোলা জায়গায় কেউ না থাকলেও শিয়াল এই হাঁস বা মুরগি কোন ঝোপের আড়ালে নিয়ে চুপিচুপি খেত। পশুত্ব, স্বভাব দোষে বা পেটের জ্বালায় শিয়ালের এই চুরি কর্ম যে অন্যায় , অনৈতিক, গর্হীত অপরাধ সেই বোধ থেকেই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে খেত। শিয়ালের মতো আগের মানুষ জন‌ ওৎঅনেকটা রাখঢাক করে , চুপে ,গোপনীয়তা বজায় রেখে , কৌশলে চুরি ডাকাতি ,খুন, রাহাজানি সহ নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, খুনের মত জঘন্য অপরাধ করে বেড়াত। কদাচিৎ অপকর্ম প্রকাশে প্রশাসন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছিল। ফলে সমাজ সংসারে অপরাধের প্রবনতা, অন্যায়, অপকর্ম,খুন ,সন্ত্রাস , দূর্নীতি কম ছিল । কিন্তু বর্তমানে সমাজে বখাটে, দু;শচরিএ ,লোকজন আর রেখে ঠেকে আন্যায়, দূর্নীতি, চাঁদা বাজি, নারী নির্যাতন, অন্যায় ভাবে নারী ভোগ , ধষর্ণ ও খুনের মত জঘন্য ব্যাভিচারের কাজ গুলো শিয়ালের মতো রেখেঢেকে চুপিসারে করে না । বরং সায়েম সোবহান আনভীরের মত বহু বখাটে,লম্পলোট লোকেরা প্রকাশ্যে এসব করে বেড়ায়। নাই প্রশাসন ও আইনের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা । শর্ষের মধ্যেই ভুতের মত আইন‌ও প্রশাসনের মধ্যেই রয়েছে নীতিহীন লোক । অর্থের তৈলতে প্রশাসন আর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনা ।ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে অপরাধ, সন্ত্রাস, দূর্নীতি, নারী লোভী ও ক্ষমতা লোভী স্বার্থপর লোকজন ।

Leave a Reply