কাবুল : ২১ শে আগস্ট কাবুলের ছাদে, নাদিমার শহর ছেড়ে না যাওয়ার প্রত্যয় [ছবি :নাদিমার সৌজন্যে]

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় এবং প্রায় ২০ বছর পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তানেবানের কঠোর শাসনের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ দেশ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

পূর্বে তালেবানরা ক্ষমকায় থাকাকালীন সময়ে মহিলাদের স্কুলে বা কাজে যেতে দেওয়া হত না। তারপরও কেউ কেউ দেশের মাটিতেই থেকে যেতে বদ্ধপরিকর। আটত্রিশ বছর বয়সী নাদিমার পরিবার যখন শিশু ছিল তখন আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে, তিনি ফিরে এসেছিলেন। এখন ভয় এবং অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তিনি আর চলে যেতে চান না। তিনি বলেন-

আমি আমার চাচাত ভাই ও মেয়ের সাথে কথা বলেছি যারা এখানে আছে এবং তারা সত্যিই ভীত। এটা আমাকে খুব আবেগপ্রবণ করে তুলেছে, কিন্তু আমি ঠিক আছি।

আমি কোথাও যাচ্ছি না।

আমি কোন অবস্থাতেই যাচ্ছি না।

আমি এখানে জন্মেছি, আমাকে এখানেই সমাহিত হতে চাই।

পালানোর এই ধরণটি ভাঙতে হবে।

আমি সবার জন্য কথা বলতে পারি না। আমি আমার কিছু বিদেশী আফগানদের বলার চেষ্টা করেছি যে আমরা এখানে থাকার জন্য এসেছি এবং তারা এতটাই বিচলিত হয়েছিল যে তারা আমাকে অবরুদ্ধ করেছিল। এটা আমাকে খুব একা মনে করিয়ে দেয়।

আমার বাবা -মা ১৯৮৪ সালে আফগানিস্তান ছেড়েছিলেন যখন আমার বয়স ছিল এক বছর। তারা পালিয়ে গেল। আমার আম্মু আমাকে গল্পগুলো বলেছে কিভাবে সে পাহাড়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, পাকিস্তানে ছুটে গিয়েছেন, কুকুর তাদের পিছনে ছুটেছে এবং তার পায়ে ফোসকা পড়েছিল। তারা কয়েক দিন ধরে খায়নি। তারা ভয় পেয়েছে।

আমি তখন শিশু ছিলাম, দুধ খাওয়ার জন্য কাঁদছিলাম এবং আমার মা আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কী করতে হবে তা জানত না।

আমি আমার মা সেই সময়কার গল্পগুলোর সাথে কখনোই সম্পর্ক স্থাপন করতে পারিনি, যদিও আমি বুঝতে এবং সহানুভূতি জানাতে পারতাম।

এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে সে আমাকে এই গল্পগুলো বলছিল মাত্র ১০ বছর আগে। পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি প্রথমবারের মতো শেয়ার করেছিলেন যখন আমরা ১৯৯৯ সালে প্রথম কানাডায় চলে আসি।

আমার বাবা -মাকে যা সহ্য করতে হয়েছিল তার সমস্ত বিবরণ জেনে আমি হতবাক হয়েছি।

আমার বয়স তখন ১৬।

আমার মা হেসে বললেন, “তোমরা ভাগ্যবান, তোমরা বিমানে এসেছ, খাবার পাচ্ছ। তোমরা কি জানেন আমার গল্প, আমি কিভাবে অভিবাসিত হয়েছিলাম?

Leave a Reply